দুর্ঘটনা রোধে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প, ৩ লাখ চালক তৈরির টার্গেট

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। ট্রাকসহ ভারি গাড়ির জন্য ৩ লাখ চালক তৈরিতে ‘ভারি যানবাহন চালক তৈরির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান’ নামের একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৭৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষ গাড়ি চালক তৈরির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সম্ভব হবে। সুগম হবে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পথ। সম্ভব হবে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

আজ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এ নিয়ে আলোচনা হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস। পরে এটি পাঠানো হবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক)। প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেলে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিসি) তা বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হবে খাবার বাবদ ৩৯৬ কোটি টাকা। প্রশিক্ষণ ভাতা বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২০ কোটি টাকা। এছাড়া ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০টি ড্রাইভিং সিমুলেটর সংগ্রহ, ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি জিপ, ১২টি ডাবল কেবিন পিকআপ, একটি মাইক্রোবাস, দুটি মোটরসাইকেল এবং ১৫০টি ট্রেনিং বাস ক্রয়।

ভারি যানবাহন ভাড়া বাবদ ব্যয় ৬৫ কোটি, জ্বালানি খাতে প্রায় ৫১ কোটি টাকা, ২৫টি ছাত্রাবাস নির্মাণে সাড়ে ৩৭ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এছাড়া ৭ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও সার্ভার, ৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে ফার্নিচার ও ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৫টি ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য খাতে বড় অংকের টাকা ব্যয় করা হবে। তবে প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াটি আবাসিক হবে কিনা সে বিষয়টিও সুস্পষ্ট নয়।

 

বিআরটিসির সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সোমবার যুগান্তরকে বলেছেন, আমি দায়িত্বে থাকতেই এ ধরনের প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। সড়ককে নিরাপদ করতে হলে অবশ্যই চালকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলতে হবে। এছাড়া ভারি যানবাহনের লাইসেন্স দেয়া অনেকদিন প্রায় বন্ধ রয়েছে।

 

এ প্রকল্পের মাধ্যমে যদি লাইসেন্স চালু হয় তাহলে সুবিধা হবে। তিনি বলেন, চালকদের হয়রানি কমাতে ৫ বছর পরপর লাইসেন্স নবায়নের যে নিয়ম সেটিও বন্ধ করা উচিত। ড্রাইভিং এমন একটি কাজ যিনি যত চালাবেন তিনি তত দক্ষ হবেন। তাই লাইসেন্স নবায়নের নামে আবার পরীক্ষা নেয়া, নানা রকম হয়রানি, দুর্নীতি এবং সময়ের যে অপচয় তা আর থাকবে না। পাশাপাশি বৈধ লাইসেন্সের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, একটি নিরাপদ ও আরামদায়ক রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৬১ সালে বিআরটিসি গঠন করা হয়। যাত্রী ও পণ্য পরিবহন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়্নন এবং গাড়ি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াও সাশ্রয়ী ভাড়ায় দ্রুত, আরামদায়ক, আধুনিক ও নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা, সকারের নির্ধারিত ভাড়ায় গাড়ি চালনা, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সড়ক পরিবহনের ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য স্ট্রাটেজিক ইন্টারভেনশনাল ভূমিকা পালন করা বিআরটিসির অন্যতম লক্ষ্য।

এটি সামনে রেখেই নিরাপদ সড়ক গড়তে বিআরটিসির তত্ত্বাবধানে ভারি যানের চালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সঠিক লাইসেন্সিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন। প্রতি বছর ন্যূনতম ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। চলতি বছর থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

পিইসি সভার কার্যপত্রে বলা হয়েছে, বিআরটিসির সব প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট ও কেন্দ্রসমূহ, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) সব কেন্দ্র, বিআরটিএ অনুমোদিত ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুল, ব্র্যাকের সবগুলো কেন্দ্র, নিরাপদ সড়ক চাই, নিটল টাটা ড্রাইভিং স্কুল, রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট কমিটি (আরটিসি) এবং উপজেলাগুলোতে ড্রাইভিং স্কুলে চালকদের প্রশিক্ষণ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। কোন প্রতিষ্ঠান বছরে কতজনকে প্রশিক্ষণ দেবে তার বিস্তারিত ক্যালেন্ডার থাকা প্রয়োজন।

এছাড়া বিআরটিসি ও বিআরটিএ ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ভারি যানের চালকদের প্রশিক্ষণ দেয়ার সক্ষমতা আছে কিনা তা পিইসি সভায় আলোচনা করা যেতে পারে। কার্যপত্রে বলা হয়েছে, যেসব চালককে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে তাদের কোনো প্রক্রিয়ায় প্রশিক্ষণের জন্য বাছাই করা হবে তা আলোচনা প্রয়োজন।

64 Views

Leave a Replay

এই বিভাগের জনপ্রিয় সব খবর পড়ুন

Follow Us

সর্বশেষ